প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক >

দুবাইয়ে গ্রেফতার আন্তর্জাতিক ড্রাগ মাফিয়া ড্যানিয়েল কিনাহান

article-img

আন্তর্জাতিক মাদক সম্রাট এবং কুখ্যাত কিনাহান কার্টেলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ড্যানিয়েল কিনাহানকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুবাই সরকারের পক্ষ থেকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। 

ইউরোপের অন্তত চারটি দেশে ২০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এই অপরাধী চক্রের হোতাকে ধরতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর এটি একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আয়ারল্যান্ডের একটি আদালত আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কে কিনাহানের ভূমিকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পাদিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় গত ১৫ এপ্রিল তাকে আটক করা হয়। 

আইরিশ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিনাহানের গ্রেফতার আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ দমনে আন্তঃরাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ডাবলিনের রিজেন্সি হোটেলে এক ভয়াবহ গুপ্তহত্যা চেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর কিনাহান আয়ারল্যান্ড ছেড়ে দুবাইয়ে পাড়ি জমান। দীর্ঘ এক দশক ধরে দুবাইকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন। 

দুবাইয়ে অবস্থানকালে তিনি এবং তার স্ত্রী কাওইমি রবিনসন কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিশাল স্থাবর সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তোলেন। ২০২২ সালে মাদক পাচার ও অর্থপাচারের দায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, উপসাগরীয় এই আমিরাতে তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসা অব্যাহত ছিল।

আমিরাতের করপোরেট রেকর্ড অনুযায়ী, কিনাহান ও তার ছোট ভাই দুবাইয়ে খাদ্য, পোশাক এবং বস্ত্র ব্যবসার আড়ালে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অপরাধ জগতের পাশাপাশি বক্সিং জগতের প্রভাবশালী নেপথ্য কারিগর হিসেবেও তিনি কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। 

বিশ্বখ্যাত বক্সার টাইসন ফুরির ডিলমেকার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মার্কিন বক্সিং প্রমোশন কোম্পানি ‘টপ র‍্যাঙ্ক’ থেকে গোপন পরামর্শক হিসেবে তিনি কয়েক মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৭ সালে দুবাইয়ের বুর্জ আল-আরব হোটেলে কিনাহানের জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অপরাধ জগতের হোতারা একত্রিত হয়েছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এই চক্রটি মূলত একটি ‘সুপার কার্টেল’ গঠন করেছিল, যা ইউরোপের মোট কোকেন ব্যবসার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করত—যার আনুমানিক বাজার মূল্য বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।

কিনাহানের বাবা এবং এই কার্টেলের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার কিনাহান সিনিয়রও দুবাইয়ে বসবাস করছেন। ২০২০ সালে তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানি মিশরীয় বিমান বাহিনীর কাছ থেকে ৯টি সামরিক পরিবহন বিমান কেনার অপচেষ্টাও চালিয়েছিল।

২০২৪ সালের অক্টোবরে আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই কিনাহানকে আয়ারল্যান্ডে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার হয়। এর আগে তার সহযোগী শন ম্যাকগভর্নকেও গত বছর দুবাই থেকে আয়ারল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

আয়ারল্যান্ডের বিচার ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী জিম ও’ক্যালাঘান এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টার ফল। এই অভিযানের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি সাধুবাদ জানাই। আইরিশ কর্তৃপক্ষ এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিনাহানকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।